সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইসলাম - রমজান মাস প্রসঙ্গে

Eid is not a mere festival of new dresses, food and drinks, or visiting friends and family... It is something beyond...
It is the festival of submissive souls, celebrating the success and achievements of the holy month of Ramadan.
May Eid be the start of a new journey of cheerful hearts... The blessed journey towards God...

.............................................................................
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ এমন অর্জনের পিছনে জীবন-যৌবন ব্যয় করে ফেলে, যা চিরস্থায়ী নয়। মানুষকে যে অনন্তকাল বেঁচে থাকতে হবে, এটা জানা থাকলেও উপলব্ধিতে আসে না। তাই অনন্ত জীবনের সঙ্গী হবে, এমন চিরস্থায়ী অর্জনের জন্য চেষ্টা করে না। অসংখ্য ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াবী অর্জনের পিছনে জীবন ব্যয় করে ফেলে। এভাবে চলতে চলতে এমন এক সময় আকস্মিকভাবে মৃত্যু উপস্থিত হয়, যখন আরো অসংখ্য ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াবী অর্জন বাকী রয়েছে। এই অতৃপ্তি নিয়েই সে মারা যায়, এবং অনন্ত জীবনে প্রবেশ করে। মৃত্যুর সাথে সাথে চোখের সামনে সব স্পষ্ট হয়ে যায়, কিসের পিছনে সে জীবন ব্যয় করেছে, এবং তার কতটুকুইবা অনন্ত জীবনে নিয়ে আসার মত ছিলো। অথচ তখন আর করার কিছু থাকে না। অনন্তকালের জীবনটা শুধু যাপন করার জন্যই, কোনো কিছু অর্জনের জন্য প্রচেষ্টার সুযোগ সেখানে নেই। আর প্রচেষ্টার সুযোগ যখন ছিলো, তখন মানুষ গোটা জীবনটা ক্ষণস্থায়ী অর্জনের পিছন ব্যয় করেছে। তখন অনুতাপ করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

আত্মপরিচিতি, খোদা পরিচিতি আর আত্মশুদ্ধির মাস, রমজান মাস শেষ হয়ে এলো। মহান আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যই হলো এমন এক অর্জন, যা চিরস্থায়ী, যা কখনো শেষ হবার নয়। সেই সান্নিধ্য অর্জনের উৎসব ছিলো এই মাসটি। রোজার আর দুই-এক দিন বাকি আছে। প্রত্যেকেরই হিসাব করতে বসা উচিত, চিরস্থায়ী অর্জনের দিকে তার সাফল্য কতটুকু, এই রমজান মাসে আল্লাহর অফুরন্ত দানের কতটুকুইবা সে অর্জন করতে পেরেছে। আর সেইসাথে আত্মশুদ্ধি, খোদার সান্নিধ্য অর্জন ও পাপ মোচনের এই মাসটি যেনো জীবনে আরো একবার ফিরে আসে, এবং সেই মাসে যেনো আমরা সফলকাম হতে পারি, সেই প্রার্থনাও করা দরকার।

.............................................................................

প্রতিটা ভাবনার শেষে, প্রতিটা প্রচেষ্টার শেষে, প্রতিটা লক্ষ্য অর্জন শেষে, প্রতিটা দিন কিংবা গোটা জীবনের শেষে -- সবশেষে মানুষ আল্লাহর কাছেই ফিরে যায়।
এই ফিরে যাওয়াটা স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার মাঝেই পরম সাফল্য।

খোদামুখী যাত্রার অভিযাত্রিকদের জন্য আধ্যাত্মিক অগ্রগতি অর্জনের উৎসবের মাস রমজানের শেষের দিকে চলে এসেছি আমরা। মানুষের দুনিয়াবী জীবনের একমাত্র ও স্থায়ী লক্ষ্য যে খোদার পরম সান্নিধ্যে মিলিত হওয়া, খোদাপ্রেমিকেরা যেনো এই মূলনীতি স্মরণে রেখে বাকি এগারোটা মাসও খোদার সান্নিধ্য অর্জনের প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে পারে, এই দোয়াই নিজের ও সবার জন্য করছি।
........................................................................
~~রমজান মাস প্রসঙ্গে‍‍‍‍‌‌‌‌~~

রমজান মাসে গিবত, মিথ্যা বলা, অন্যের হক নষ্ট করা, হিংসা-বিদ্বেষ-ঘৃণাসহ অসংখ্য গুনাহ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। বিশেষভাবে রমজান মাসে কেনো ? অথচ কোনো মানুষই বলবে না যে, ঈদের পর থেকে তুমি এসব গুনাহে আবার লিপ্ত হতে পারো। বরং এসব কাজ সবসময়ের জন্যই নিন্দনীয় ও আল্লাহর কাছে ঘৃণিত। হ্যাঁ, বলা হয় যে, এসব করলে রোজা হালকা হয়ে যায়। পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা নষ্ট হয়। আসলে রোজা কী ও রমজান মাস কী ?

সাওম, বা বিরত থাকা। নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয় কাজগুলো তো বটেই, এমনকি অনেক বৈধ কাজ থেকেও বিরত থাকতে হয় রমজান মাসে। এই বিরত থাকা কিসের জন্য ? "পরিপূর্ণ রোজা বা বিশুদ্ধ রোজা" যারা পালন করেন, তারা রমজান মাসে গোটা দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, হাত গুটিয়ে নেন, "বিরত" থাকেন, একাকী হয়ে যান। দুনিয়াবী সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হয়ে যাওয়াটা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, বরং এই বিরত হওয়াটা অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হবার জন্য। এমন এক উৎসবে যোগদান করার জন্য, যে উৎসবে পরিপূর্ণভাবে যোগদান করতে হলে দুনিয়াবী কর্মকাণ্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে, বিরত হয়ে যেতে হবে। আর এই উৎসব হলো খোদার সান্নিধ্য লাভের উৎসব। আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উৎসব। একারণেই রমজান মাস হলো আধ্যাত্মিকতার মাস, এবং সেকারণেই আত্মশুদ্ধির মাস।


রমজান মাসের উপর নানান দৃষ্টিকোণ থেকে আলোকপাত করা যায়। একটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই মাসের কর্মকাণ্ডকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় : এক. আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উৎসবে যোগদানের প্রস্তুতি; দুই. আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উৎসবে যোগদান করা।

প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডের আলোচনা অনেক হয়, এবং এগুলো সবার জানা। যেমন, গিবত, হিংসা-বিদ্বেষ, পরচর্চা ইত্যাদিসহ সকল নেগেটিভ গুনাবলী থেকে বিরত থাকা, আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ ও তাঁর কাছে নিন্দনীয় সকল কাজ থেকে বিরত থাকা, এবং এমন আরো অনেক কিছু। এছাড়া ন্যুনতম যেসব কাজ না করলে রোজা হবে না, সেগুলো তো আছেই। যেমন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাওয়া দাওয়া বন্ধ রাখা, জৈবিক আনন্দভোগ না করা ইত্যাদিসহ শরীয়ত যেসব কাজের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে, সেগুলো। এগুলো সবই প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড। এগুলো সবারই জানা, তবুও দুয়েকটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন একারণে যে, পরিপূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া উৎসবে সঠিকভাবে যোগদান করা যায় না।
রমজান মাসকে গোটা একটি জিনিস হিসেবে দেখতে হবে। এভাবে নয় যে : সকাল থেকে সন্ধ্যা তো সব বন্ধ ছিলো, এবার ইফতার সেরেই দুটো তিনটা মুভি, কিছু গানবাজনা, গেইমস কিংবা রান্নার রেসিপি, পনরো-বিশ পদের খাওয়া -- এসব করে নিই। না, এটা প্রস্তুতিতে নষ্ট করে দেয়। তারপর, খেলা দেখা। বন্ধু বান্ধব কাজিনেরা একত্র হয়ে রাতজেগে গল্প করা। এমন আরো অনেক কিছু। এগুলো প্রস্তুতিকে নষ্ট করে দেয়। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, এই প্রস্তুতি হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উৎসবে যোগদান করতে চায়, সে নিজে থেকেই চিন্তা করবে যে, উৎসবে যোগদানের প্রস্তুতি ঠিকমতো নিয়েছি তো ? নাকি এখনও আমার দৈনন্দিন কাজকর্মে এমন বিষয় রয়ে গিয়েছে, যা এই আধ্যাত্মিক উৎসবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় ?

স্মরণ রাখতে হবে যে, শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে রোজা বৈধ হওয়া ও আল্লাহর কাছে রোজা গ্রহণযোগ্য হওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। সুতরাং, কেবল শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে রোজাকে গ্রহণযোগ্য করলেই হবে না, বরং সেটা প্রকৃত রোজা-ই হবে না, যতক্ষণ না সেটা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। রমজান মাসেও যার মন দুনিয়াতে পড়ে রইলো, যে খোদা পরিচিতি ও আত্ম পরিচিতি লাভ করতে পারলো না, আত্মশুদ্ধি লাভ করতে পারলো না, তার সারাদিন উপবাস থাকার কী মূল্য আছে আল্লাহর কাছে ! সেতো ত্রিশতম দিন থেকেই আবারো কলুষিত সব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়বে।
অতএব, প্রতিটা রোজাকে ও গোটা রমজান মাসের সামগ্রিক জীবনযাত্রাকেই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয় করার চেষ্টা করতে হবে। এগুলো সবই প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড। সেজন্যে দৈনন্দিন জীবন থেকে যেসব জিনিস বাদ দেয়া যেতে পারে :
টিভি পারতপক্ষে না দেখা, নানারকম খেলার ম্যাচ না দেখা, যোগাযোগ ও জ্ঞান অর্জন ছাড়া অন্য কোনো কাজে ফেইসবুক ও ইন্টারনেট ব্যবহার না করা, অনর্থক কথা না বলা, গল্পের বই, মুভি, গান ইত্যাদি বিনোদনমূলক জিনিস থেকে বিরত থাকা, সুস্বাদু খাবারের রেসিপি দেখা, পোশাকের চাহিদা মেটানোর জন্য যতটুকু প্রয়োজনীয়, তার চেয়ে বেশি শপিং করা ... এবং এমন আরো অনেক কিছু। এবং এগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাদ দিতে হবে, জোর করে নয়।

মনে হতে পারে যে, এসবই তো দিনের সকল কর্মকাণ্ড। তাহলে এতকিছু বাদ দিলে সময় কাটবে কিভাবে ? হ্যাঁ, এতকিছু, অর্থাৎ দুনিয়াবী সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হয়ে গেলে প্রস্তুতি পূর্ণ হবে, এবং তখন মানব-হৃদয় মহান আল্লাহর সাথে যোগাযোগের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। তখন নামাজ, কুরআন, ধর্মীয় পড়াশুনা ও ধ্যান এর মধ্যদিয়ে কমপক্ষে তিনটি জিনিস অর্জনের চেষ্টা করতে হবে : ১. আত্মপরিচিতি, অর্থাৎ নিজেকে জানা; ২. খোদা পরিচিতি, অর্থাৎ আল্লাহর গুণাবলী ও কার্যকারণবিধি সম্পর্কে জানা; ৩. আত্মশুদ্ধি, অর্থাৎ নিজের অন্তরকে বিশুদ্ধ করা।
আর পূর্ণ প্রস্তুতিসহকারে ত্রিশ দিন ধরে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলে আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব হবে। এবং আত্মিক উন্নতি ও পরিশুদ্ধি ঘটবে। ফলশ্রুতিতে পরবর্তী এগারো মাস এই অর্জনকে সম্বল করে পথ চলে আরো একটি রমজান মাসে প্রবেশ করা সম্ভব হবে। মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রায় অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

একটি উদাহরণ হলো, দশ-বারোজন ছাত্র কোনো দ্বীনি ব্যক্তিত্বের বাসায় গিয়েছে ধর্মীয় কোনো বিষয়ে তার মতামত শোনার জন্য; এবং তাদের সামনে কিছু খাবার দেয়া হয়েছে। সবাই চুপচাপ আলোচনা শুনছে, এমন সময় হুজুর উঠে অন্দরমহলে গেলে সবাই হামলে পড়ে খাবারগুলো সাবাড় করায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো। হুজুর ফিরে এসে বুঝলেন, এতক্ষণ এদের মন খাবারের দিকেই ছিলো, জ্ঞান অর্জনের দিকে নয়। এরপর কেউ হয়তো টিভি একটু ছেড়ে খেলার আপডেট জেনে নিলো, কেউবা আবার স্মার্টফোনে গেইমস খেলতে লাগলো, কেউ হয়তো আরামদায়ক সোফায় বসে ঘুমিয়েই গেলো। আবার দুই-তিনজন হয়তো আনমনে পরস্পর গল্প শুরু করে দিলো। হুজুর যদিও তাদেরকে সুযোগ দিয়েছিলেন কয়েক ঘন্টা জ্ঞান অর্জনের, কিন্তু তাদের মন পড়ে রয়েছে অন্যখানে। অতএব এটা হুজুরেরও যেমন অপমান, তেমনি ছাত্রদেরও বোকামি যে এতদূর কষ্ট করে এসে জ্ঞান অর্জন না করে শূন্যহাতেই তারা ফিরে গেলো।

তেমনিভাবে রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে সুযোগ দিয়েছেন তাঁর সান্নিধ্য অর্জন করে নেবার। অথচ বান্দা পড়ে রয়েছে ইফতারের যত পদ কিংবা গান-বাজনা-মুভি-খেলা এসব নিয়ে। যদিও বাহ্যত সে স্বেচ্ছায়ই খোদার সান্নিধ্য অর্জনের উৎসবে এসেছে, সকাল-সন্ধ্যা না খেয়ে থাকছে, হয়তো নামাজ-কুরআনও পড়ছে, করছে ধর্মীয় পড়াশুনাও। ওদিকে আবার গান-বাজনা-মুভি-খেলা, আড্ডাবাজি, এগুলো থেকেও নিজেকে ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না।
অতএব, রমজান মাসের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করে ঐশী সান্নিধ্য অর্জনের উৎসবে যোগদান করতে হলে প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা প্রয়োজন। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ব্যক্তিগত ক্ষেত্র থেকে এই প্রস্তুতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করতে হবে।
তবেই প্রবেশ করা যাবে আধ্যাত্মিকতার জগতে, যেখানে স্রষ্টার সান্নিধ্যই পরম সুখ ও পরম প্রশান্তি।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

টাকার ইতিহাস, মানি মেকানিজম ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মহা জুলুম

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।) **জালিমের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম**

জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাস হলো মহররম মাস।
জালিমের মুখোশ উন্মোচনের মাস মহররম।
জুলুমের কূটকৌশল উন্মোচনের মাস মহররম।
আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় লেজিসলেশান (সংসদ), আর্মড ফোর্সেস (আর্মি) ও জুডিশিয়ারি (আদালত) হলো এক মহা জুলুমের ছদ্মবেশী তিন যন্ত্র, যারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে জুলুম টিকিয়ে রাখার জন্য।
তারচেয়েও বড় জালিম হলো big corporations: বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, যারা তাবৎ দুনিয়াকে দাস বানিয়ে রেখেছে।
আর এই দাসত্বের শৃঙ্খলে তারা আমাদেরকে আবদ্ধ করেছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে:
টাকা আমাদের শ্রমকে ধারণ করে, অথচ সেই টাকার মূল্য আপ-ডাউন করায় অন্যরা -- ব্যাংক ব্যবসায়ীরা!
টাকা আমাদের শ্রমকে সঞ্চয় করার মাধ্যম,
অথচ সেই টাকা আমরা প্রিন্ট করি না, প্রিন্ট করে (ব্যাংকের আড়ালে) কিছু ব্যবসায়ী! সেই টাকার মান কমে যাওয়া (বা বেড়ে যাওয়া) আমরা নির্ধারণ করি না -- নির্ধারণ করে ব্যাঙ্ক (ব্যবসায়ীরা)!
ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করব, শোকাহত হব কারবালার স্মরণে, অভিশাপ দেব জালি…

ধর্মব্যবসা: মুসলমানদের হাতে ইসলাম ধ্বংসের অতীত-বর্তমান (১)

ভূমিকা যদিও পলিটিকাল-রিলিজিয়াস ইস্যুতে নিশ্ছিদ্র আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করে আলোচনা করার অভ্যাস আমার, কিন্তু এখানে বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরে আর্গুমেন্ট করার প্রথমতঃ ইচ্ছা নেই, দ্বিতীয়তঃ সময় ও সুযোগ নেই। আমি যা সত্য বলে জানি, তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। যারা আমার উপর আস্থা রাখেন তাদের জন্য এই লেখাটি সোর্স অব ইনফরমেশান, উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষদের জন্য সত্য অনুসন্ধানের নতুন কিছু টপিক, আর প্রেজুডিসড ধর্মান্ধ রোগগ্রস্ত অন্তরের জন্য রোগ বৃদ্ধির উছিলা। শেষ পর্যন্ত আর্গুমেন্ট ও ডায়লগের দুয়ার উন্মুক্ত রাখার পক্ষপাতী আমি, কিন্তু সেই আর্গুমেন্ট অবশ্যই সত্য উন্মোচনের নিয়তে হওয়া উচিত, নিজের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস ও ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করবার উদ্দেশ্যে নয়। মক্কা-মদীনা: মুহাম্মদ (সা.) থেকে আলে-সৌদ (৬২৯-১৯২৪) এদেশের অধিকাংশ মানুষ মক্কা-মদীনার ইতিহাস কেবল এতটুকু জানেন যে, মুহাম্মদ (সা.) মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। কিন্তু প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র থেকে আজকের রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের ইতিহাস কম মানুষই জানেন। পবিত্র ম…

পিস টিভি, জাকির নায়েক ও এজিদ প্রসঙ্গ

সম্প্রতি গুলশান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। আমি তখন দিল্লীতে ছিলাম। দেশে ফিরে শুনি পিস টিভি ব্যান করা হয়েছে বাংলাদেশে, এবং তার আগে ইন্ডিয়াতে।

আমার বাসায় টিভি নেই, এবং আমি জাকির নায়েকের লেকচার শুনিও না। কিংবা পিস টিভিতে যারা লেকচার দেন, বাংলা কিংবা ইংলিশ -- কোনোটাই শুনি না; প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া আমার ইসলামের বুঝ জাকির নায়েকসহ পিস টিভি ও তার বক্তাদেরকে ইন জেনারেল আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। Peace TV বন্ধ হওয়ায় এদেশে বিকৃত ইসলাম প্রসারের গতি কমলো -- এটাই আমার মনে হয়েছে।

একইসাথে আমি এটাও মনে করি যে, যেই অভিযোগ পিস টিভিকে ব্যান করা হয়েছে, তা নিছক অজুহাত। জাকির নায়েক কখনো জঙ্গীবাদকে উস্কে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কিংবা পিস টিভির লেকচার শুনে শুনে ISIS জঙ্গীরা সন্ত্রাসী হয়েছে -- এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। ISIS এর ধর্মতাত্ত্বিক বেইজ সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই, এমন লোকের পক্ষেই কেবল ISIS এর জন্য জাকির নায়েককে দোষ দেয়া সম্ভব। একইসাথে আমি এ বিষয়েও সচেতন যে, পিস টিভি বন্ধ করা হয়েছে আমাদের সরকারের রেগুলার “ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ” হিসেবে, এই জন…