সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

টাকার ইতিহাস, মানি মেকানিজম ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মহা জুলুম

ভূমিকা: জালিমের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম
জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাস হলো মহররম মাস। জালিমের মুখোশ উন্মোচনের মাস মহররম। জুলুমের কূটকৌশল উন্মোচনের মাস মহররম। আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় লেজিসলেশান (সংসদ), আর্মড ফোর্সেস (আর্মি) ও জুডিশিয়ারি (আদালত) হলো এক মহা জুলুমের ছদ্মবেশী তিন যন্ত্র, যারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে জুলুম টিকিয়ে রাখার জন্য। তারচেয়েও বড় জালিম হলো big corporations: বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, যারা তাবৎ দুনিয়াকে দাস বানিয়ে রেখেছে। আর এই দাসত্বের শৃঙ্খলে তারা আমাদেরকে আবদ্ধ করেছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে: টাকা আমাদের শ্রমকে ধারণ করে, অথচ সেই টাকার মূল্য আপ-ডাউন করায় অন্যরা -- ব্যাংক ব্যবসায়ীরা! টাকা আমাদের শ্রমকে সঞ্চয় করার মাধ্যম, অথচ সেই টাকা আমরা প্রিন্ট করি না, প্রিন্ট করে (ব্যাংকের আড়ালে) কিছু ব্যবসায়ী! সেই টাকার মান কমে যাওয়া (বা বেড়ে যাওয়া) আমরা নির্ধারণ করি না -- নির্ধারণ করে ব্যাঙ্ক (ব্যবসায়ীরা)! ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করব, শোকাহত হব কারবালার স্মরণে, অভিশাপ দেব জালিম এজিদকে ও এজিদের অপকৌশলের মুখোশ উন্মোচন করব, অথচ -- অথ…
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

রাজনীতি সিরিজ

হিজরি সনের প্রথম মাস, মহররম। পশ্চিমাদের অর্থহীন 'happy new year' বলার মত করে অনেকে দেখছি 'হিজরি নববর্ষের শুভেচ্ছা' জানাচ্ছেন। আমরা জানতে চাই, এই আনন্দ কিসের?
যদি এই আনন্দ এটা হয় যে, এই মহররম মাসেই ইসলাম জিন্দা হয়েছে, যার ফলে আমরা আজ নিজেদেরকে মুসলিম বলতে পারছি, নাহলে এই আলোটুকুও নিভে যেত -- তবে হ্যাঁ, তা এক বিবেচনায় আনন্দের হতে পারে বটে, তবে একইসাথে তা শতগুণ বেদনার: কারবালার ময়দানে ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর পবিত্র রক্তে ইসলামকে জিন্দা করে দিয়ে গেছেন এই মহররম মাসেই।
কিন্তু মহররমের এই 'যিবহিন আজীম' তথা মহান উৎসর্গ, যার বিনিময়ে ইব্রাহীম (আ.) তাঁর পুত্রকে ছুরির নিচে নিয়েও ফিরে পেলেন, যাঁর স্মরণে আমাদের কুরবানি আর কুরবানির ঈদ --
সেই হুসাইনকে (আ.) ভুলে আর হুসাইনের জিন্দা করা ইসলামকে ভুলে যদি আপনি 'হিজরি নববর্ষের শুভেচ্ছা' বলেন আর প্রচার করেন, তবে আফসোস!
এজিদের দরবারেরও তো 'আলেম' ছিল!
যাহোক, রাসুল (সা.) এর ইন্তেকালের পর 'ইসলামী সেক্যুলারিজমের' সূত্রপাত হয়। মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সার্বিক নেতৃত্বের পদ '…

সমকামিতাকে বৈধতা দেয়া প্রসঙ্গে

১. ব্রিটিশ শয়তানদের পরিকল্পনা মোতাবেক ২০১২ সালে লন্ডন থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে gay-friendly-mosque চালু করা হয়েছে, এবং সেখানে ভাড়া করা শয়তানদেরকে মুসলিম সাজিয়ে নামাজ পড়ানো হচ্ছে, এমনকি বেপর্দা নারীদের নেতৃত্বে, নারী-পুরুষ মিলেমিশে।
যাহোক, এইযে বলছে "সমকামী-বান্ধব মসজিদ" -- একটু চিন্তা করে দেখুন, কোনো মসজিদে প্রবেশের সময় কি মুসল্লিকে বলতে হয় সে সমকামী নাকি স্বাভাবিক? সে বিবাহিত, কি অবিবাহিত? সে জেনাকারী, নাকি সাধু?
না। তাহলে gay-friendly-mosque কথাটার অর্থ কী? বরং অসভ্য ইউরোপ-আমেরিকানদের যে বিভিন্ন 'সেক্স-ক্লাব' থাকে, সেটাকে যদি তারা একদিন gay-friendly ঘোষণা করে, তবে সেটা অর্থপূর্ণ হবে: এতদিন নারী-পুরুষ সেখানে মেলামেশা করতে পারত, এখন সমকামীরাও পারবে।

কিন্তু মসজিদ তো যৌনকর্মের জায়গা নয় যে, সেটাকে সমকামী-বান্ধব ঘোষণা করতে হবে!

অতএব, এগুলো শয়তানের এজেন্টরা নিউজ সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেছে, যাতে মুসলিম সমাজকে উত্তেজিত করা যায়। একইসাথে ইসলামে সমকামিতার গ্রহণযোগ্যতা ১% হলেও সৃষ্টি করা যায়। আপনাদেরকে এই বিষয়টা বুঝতে হবে।

২. আমাদের আরও এক…

কেন এরদোয়ান মুনাফিক?

এরদোয়ানের শাসনামলে (২০০৩-২০১৮) গৃহীত তুর্কি-ইজরাইল সম্পর্ক:
২০০৫ সালে ইজরাইলে গিয়ে তুর্কি-ইজরাইল সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ইজরাইলকে প্রস্তাব এরদোয়ান। "ইরানের পারমাণবিক গবেষণা শুধু ইজরাইলের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি" -- এই উক্তিও করেন (যদিও ইজরাইলের ৪০০+ পারমাণবিক বোমা আছে, কিন্তু ইরান মেডিকেল সায়েন্স ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরমাণু সমৃদ্ধ করলে সেটাকে বিশ্বের জন্য হুমকি মনে করেন এরদোয়ান। ইজরাইলের ৪০০+ পারমানবিক বোমাকে বিশ্বের জন্য হুমকি মনে করেন না!)

নভেম্বর, ২০০৭ সালে ইজরাইলী প্রধানমন্ত্রী শিমন পেরেজ তুর্কি সংসদে বক্তব্য দেন।
২০১০ সালে (এরদোয়ানের উদ্যোগে নয়, বরং) তুর্কি বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে "গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলা" জাহাজ ফিলিস্তিন অভিমুখে রওনা হয় সাহায্য নিয়ে। সেখানে ইজরাইলী সৈন্যরা হামলা করে ৯ জন তুর্কি নাগরিককে শহীদ করে। এই নিয়ে তুর্কি-ইজরাইল কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলে ২০১৬ সালে সেটা আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। ইজরাইলের সাথে এরদোয়ান নিম্নোক্ত চুক্তি করেন:
১. গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলার শহীদগণকে হত্যার দায়ে ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে দায়ের করা মামলা তুরস্ক তুলে…

সংখ্যালঘুদের উপর জুলুম

১. আল জাজিরা টিভি VR চ্যানেল চালু করেছে। সেই চ্যানেলে আজমীর শরীফে ইফতারের ভিডিও পাবলিশ করেছে। খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর মাজার সেখানে। টপ কমেন্টস এর সবগুলোতেই আমাদের "মুসলিম" ভাইয়েরা লিখেছেন: মাজার হলো শিরক, বিদআত, এগুলোর কোনো স্থানই ইসলামে নাই।
হতাশ হয়ে ভাবছি: হায়রে ইসলামের শত্রুরা! তোরা হৃদয়ের ধর্মের অনুসারীদেরকে আজ প্রেমের বিপরীতে নিয়ে গেলি!
তারপরই নিচের দিকে একটা কমেন্ট পেলাম, একজন লিখেছে যে সুফিজমই প্রকৃত ইসলাম।
তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসলাম।
২. ইস্তানবুল শহর, তুরস্ক। এক মেয়ে মিনি স্কার্ট পরে বাসে উঠেছে। তার পিছনের সিট এক ছেলে, দাড়ি আছে। মেয়েটিকে বলছে, তোমার লজ্জা করে না?
পরে বাস থামলে নামার সময় মেয়েটির গালে চড় মেরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল; মেয়েটি উঠে এসে ছেলেটাকে ধরল, ছেলেটা মেয়েটাকে ধাক্বা দিয়ে বাসের ভিতরে ফেলে দিয়ে নেমে গেল।
পুলিশ তাকে অ্যারেস্ট করেও "তদন্ত চলছে" বলে ছেড়ে দিয়েছে। অথচ বিনা বিচারেই গুলেন সাপোর্টার ৩৮ হাজার নেতাকর্মীকে জেলে ভরতে পারে এরদোয়ান, সেজন্যে ৩৮ হাজার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে বের করে দেয়, সেটা আবার তার প্রধানমন্ত্রী লাইভ টিভিতে স্বীকারও করে। …

Ramadan Post

রমজান মাসের আর ৫ দিন বাকি। খোদাপ্রেম-খোদাভীতি বৃদ্ধি ও আত্মশুদ্ধির মাস। তবে একইসাথে জ্ঞানার্জনও জরুরি। সেজন্যে পুরো কোরআন ৩০ দিনে বুঝে পড়াসহ আরো বিভিন্ন আত্ম-উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রত্যেকেরই করা উচিত। আর আপনার জন্য কোন কোন বিষয় জরুরি, কিভাবে পরিকল্পনা করা উচিত, তা আপনিই ভালো বুঝবেন। তবে যেমনই হোক না কেন, পরিকল্পনা যেন থাকে; রমজান মাস শুরু হবার আগেই।
এটা নিজের কাছেই স্বীকার করা উচিত যে, জীবনের এতগুলো বছর পার হয়ে গেছে, অথচ আল্লাহর বাণী বুঝে পড়া হয়নি আমাদের বেশিরভাগ মুসলমানেরই। অবশ্য মেজরিটি মুসলমান যে কুরআন পরিত্যাগ করবে, সেকথা কুরআনেই আছে (সূরা:২৫, আয়াত:৩০)।
আমার ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণে দেখেছি যে, ধর্মের প্রাইমারি লেভেলের শিক্ষা অর্জন না করে ইউনিভার্সিটি লেভেলের বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া ও মাতামাতি করাটা আমাদের মধ্যে মহামারী আকার ধারণ করেছে। এমতাবস্থায় আমভাবে (general) কথা বলার ক্ষেত্রে বেসিক মৌলিক বিষয়ের আলোচনাই বেশি বেশি হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যেমন, আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিদের সম্পর্কে নিচের সংক্ষিপ্ত আলোচনাটা দেখুন।
………………………………
ধর্মীয় বিষয়ে যাদের অনুসণ করা হয়, তারা এ…

শবে বরাত: বিদাত?

যুগযুগ ধরে আমাদের দেশে শবে বরাত, শবে ক্বদর, ইদে মিলাদুন্নবী (সা.) ইত্যাদি পালিত হয়ে আসছে। 'বিদআত' শব্দটা আজকে যেভাবে সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে, সেভাবে জানত না ৩০ বছর আগেও।
হঠাতই যেন কোথা থেকে একদল ঝাড়ুদার হাজির হয়েছেন, আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের ইসলামে 'বিদআত' আবিষ্কার করে ঝাড়ু দিয়ে ঝেড়ে তা পরিষ্কার করে দিবেন। বিনা পয়সায় এত পরোপকার!
না না। গোড়া অনুসন্ধান করলে দেখবেন, আলে সৌদের হারাম টাকাখোর। এরাই হলো সেইসব মানুষ, যারা দ্বীন শিক্ষা দেবার আগে বিদআত শিক্ষা দেয়।
এদের সাইকোলজিকাল গেইমটা খুব সহজ। আপনি সহজ সরল মানুষ, আর সবার মত পরিবার ও সমাজ থেকে শিখে ইসলামী আচার অনুষ্ঠান পালন করেন। হঠাৎ সে এসে আপনার নামাজ, রোজা, নফল ইবাদত ইত্যাদি দেখে আঁতকে ওঠার মত করে বলবে: "আ! সেকি ভাই! আপনার সব আমল তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! আপনিতো বিদাতে লিপ্ত!"
আপনিতো সহজ সরল মানুষ। সুন্নাত বিদাত এত শব্দ তো জানেন না। আপনি তার কথা শুনে ভড়কে যাবেন। আর যেহেতু আপনার নিজের ধর্মীয় পড়াশুনা ও এই জগতে দৃঢ় কোনো জ্ঞান নেই, সেহেতু দুর্বল অনুভব করবেন। ব্যস, আপনার উপর সাইকোলজিকাল গেইম শুরু …

কুরানিস্ট ভিউ: শুধু কুরআনই কি যথেষ্ট?

১. 'কুরআন' হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে একটি একক অনুভূতি / ভাব (sense)। এই ধাপে কুরআনের সংরক্ষণ বা বিকৃতি -- ইত্যাদি কোনো প্রশ্নই আসে না। অতএব, সংরক্ষণ পদ্ধতিরও প্রশ্ন আসে না।

২. অতঃপর এই অনুভূতি আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (সা.) এর হৃদয়ে 'নাযিল' করেছেন, সম্পূর্ণটা, একত্রে। প্রশ্ন হলো, এই স্তরে তা সংরক্ষিত থাকবে কিনা? এবং সংরক্ষণের পদ্ধতি কী? এর উত্তর সংক্ষেপে দিলে তা অসম্পূর্ণ হবে, কেননা নূরে মুহাম্মদীর (সা.) দৃষ্টিকোণ এক্ষেত্রে অপরিহার্য। তবে সংক্ষেপে বললে, মুহাম্মদ (সা.) নিষ্পাপ ও নির্ভুল তো বটেই, ব্যক্তিসত্তার দিক থেকে তিনি এত উচ্চ স্তরের যে, সেখানেও আসলে সংরক্ষণ ও বিকৃতি ইত্যাদি প্রশ্নই আসে না। অতএব, তিনি যা ধারণ করে আছেন, তা অপরিবর্তিত ও সংরক্ষিত রূপে আছে এবং থাকবেই।
৩. অতঃপর আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাক্রমে বিভিন্ন সময়ে এই 'একক অনুভূতি', (যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত, যাকে কুরআন বলা হয়, তা) থেকে মুহাম্মদ (সা.) বিভিন্ন অনুভূতি (ভাব - sense) আরবি ভাষায় মুখে প্রকাশ করেছেন, যেটাকে আমরা সাধারণভাবে 'নাযিল' হওয়া বলে থাকি। এইযে তা মানুষের ভাষায় প্রকাশ হয়ে পড়লো, এবার এই স্তর…