সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

খোদার জন্যেই ভালোবাসা, খোদার জন্যেই ঘৃণা করা

"... বহুকাল যাবৎ মানুষ স্বর্গের চাবিকাঠি খুঁজে আসছে। কিন্তু তারা ভুল জায়গায় সুখের সন্ধান করছে। নিশ্চিতভাবেই সুখ সেখানে নেই। সুখকে মানুষ গুপ্তধন মনে করে, আর এই মায়ার কারণেই সুখ খুঁজে পায় না। এককথায়, তারা "চাবি" বা "রহস্য" খুঁজছে। অথচ ব্যাপারটা মোটেও জটিল নয়। মূসাকে (আ.) এই রহস্য খোদা এককথায় বলে দিয়েছেন : "আমার তরেই ভালোবাসো, আমার তরেই ঘৃণা করো।"
যখন বলা হয় যে, "বেলায়েত মেনে নিলেই আমল কবুল হয়", এর অর্থ হলো (ইমামের প্রতি) এই ভালোবাসা খোদার তরে। এর মানে হলো, যে কাউকে খোদা ভালোবাসেন, তুমিও তাকে ভালোবাসো। অর্থাৎ খোদার কারণে ভালোবাসা, খোদার তরেই ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়া। বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, এমনকি তোমার নিজের অন্তরের তৃপ্তির জন্যেও নয়। শুধুই খোদার তরে !
যদি তোমার ভালোবাসার মানদণ্ড হয় খোদা, তখন এমনকি যদি কেউ মূল্য না-ও দেয়, তবুও তুমি ভালোবেসে যাও ! যদি জবাবে অকৃতজ্ঞতা পাও, তবুও তুমি সঠিক কাজটাই করে যাও ! যারা শেষ পর্যন্ত (এই সৎকাজ, ভালোবাসা) ধরে রাখতে পারে না, তাদের কাজ খোদার তরে নয় ! খোদার তরে তুমি যত কষ্ট করবে, ততই তোমার আধ্যাত্মিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
"তোমার প্রতি ভালোবাসার রসায়ন থেকে (হে খোদা !)
আমার ধূলিময় চেহারা হয়েছে ঝলমলে স্বর্ণ।
হ্যাঁ, তোমার দয়ার আশীর্বাদে ধূলিও হয়ে যায় স্বর্ণ।" (-- মহাকবি হাফিজ।)
এইযে রাসয়ন, যা সবাই খুঁজে বেড়াচ্ছে -- এই ভালোবাসাই হলো সেই জিনিস। বাকিগুলো হলো উচ্ছিষ্ট।
এখন চিন্তা করে দেখো, কেনো লোকে বলে :
"ধুয়ে মুছে ফেলো তোমার যত বই,
যদি আমরা যা পড়ি, তুমিও তা-ই পড়ো।
কারণ ভালোবাসার জ্ঞান কোনো কিতাবে নেই।"

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

টাকার ইতিহাস, মানি মেকানিজম ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মহা জুলুম

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।) **জালিমের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম**

জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাস হলো মহররম মাস।
জালিমের মুখোশ উন্মোচনের মাস মহররম।
জুলুমের কূটকৌশল উন্মোচনের মাস মহররম।
আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় লেজিসলেশান (সংসদ), আর্মড ফোর্সেস (আর্মি) ও জুডিশিয়ারি (আদালত) হলো এক মহা জুলুমের ছদ্মবেশী তিন যন্ত্র, যারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে জুলুম টিকিয়ে রাখার জন্য।
তারচেয়েও বড় জালিম হলো big corporations: বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, যারা তাবৎ দুনিয়াকে দাস বানিয়ে রেখেছে।
আর এই দাসত্বের শৃঙ্খলে তারা আমাদেরকে আবদ্ধ করেছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে:
টাকা আমাদের শ্রমকে ধারণ করে, অথচ সেই টাকার মূল্য আপ-ডাউন করায় অন্যরা -- ব্যাংক ব্যবসায়ীরা!
টাকা আমাদের শ্রমকে সঞ্চয় করার মাধ্যম,
অথচ সেই টাকা আমরা প্রিন্ট করি না, প্রিন্ট করে (ব্যাংকের আড়ালে) কিছু ব্যবসায়ী! সেই টাকার মান কমে যাওয়া (বা বেড়ে যাওয়া) আমরা নির্ধারণ করি না -- নির্ধারণ করে ব্যাঙ্ক (ব্যবসায়ীরা)!
ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করব, শোকাহত হব কারবালার স্মরণে, অভিশাপ দেব জালি…

ধর্মব্যবসা: মুসলমানদের হাতে ইসলাম ধ্বংসের অতীত-বর্তমান (১)

ভূমিকা যদিও পলিটিকাল-রিলিজিয়াস ইস্যুতে নিশ্ছিদ্র আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করে আলোচনা করার অভ্যাস আমার, কিন্তু এখানে বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরে আর্গুমেন্ট করার প্রথমতঃ ইচ্ছা নেই, দ্বিতীয়তঃ সময় ও সুযোগ নেই। আমি যা সত্য বলে জানি, তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। যারা আমার উপর আস্থা রাখেন তাদের জন্য এই লেখাটি সোর্স অব ইনফরমেশান, উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষদের জন্য সত্য অনুসন্ধানের নতুন কিছু টপিক, আর প্রেজুডিসড ধর্মান্ধ রোগগ্রস্ত অন্তরের জন্য রোগ বৃদ্ধির উছিলা। শেষ পর্যন্ত আর্গুমেন্ট ও ডায়লগের দুয়ার উন্মুক্ত রাখার পক্ষপাতী আমি, কিন্তু সেই আর্গুমেন্ট অবশ্যই সত্য উন্মোচনের নিয়তে হওয়া উচিত, নিজের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস ও ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করবার উদ্দেশ্যে নয়। মক্কা-মদীনা: মুহাম্মদ (সা.) থেকে আলে-সৌদ (৬২৯-১৯২৪) এদেশের অধিকাংশ মানুষ মক্কা-মদীনার ইতিহাস কেবল এতটুকু জানেন যে, মুহাম্মদ (সা.) মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। কিন্তু প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র থেকে আজকের রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের ইতিহাস কম মানুষই জানেন। পবিত্র ম…

পিস টিভি, জাকির নায়েক ও এজিদ প্রসঙ্গ

সম্প্রতি গুলশান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। আমি তখন দিল্লীতে ছিলাম। দেশে ফিরে শুনি পিস টিভি ব্যান করা হয়েছে বাংলাদেশে, এবং তার আগে ইন্ডিয়াতে।

আমার বাসায় টিভি নেই, এবং আমি জাকির নায়েকের লেকচার শুনিও না। কিংবা পিস টিভিতে যারা লেকচার দেন, বাংলা কিংবা ইংলিশ -- কোনোটাই শুনি না; প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া আমার ইসলামের বুঝ জাকির নায়েকসহ পিস টিভি ও তার বক্তাদেরকে ইন জেনারেল আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। Peace TV বন্ধ হওয়ায় এদেশে বিকৃত ইসলাম প্রসারের গতি কমলো -- এটাই আমার মনে হয়েছে।

একইসাথে আমি এটাও মনে করি যে, যেই অভিযোগ পিস টিভিকে ব্যান করা হয়েছে, তা নিছক অজুহাত। জাকির নায়েক কখনো জঙ্গীবাদকে উস্কে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কিংবা পিস টিভির লেকচার শুনে শুনে ISIS জঙ্গীরা সন্ত্রাসী হয়েছে -- এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। ISIS এর ধর্মতাত্ত্বিক বেইজ সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই, এমন লোকের পক্ষেই কেবল ISIS এর জন্য জাকির নায়েককে দোষ দেয়া সম্ভব। একইসাথে আমি এ বিষয়েও সচেতন যে, পিস টিভি বন্ধ করা হয়েছে আমাদের সরকারের রেগুলার “ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ” হিসেবে, এই জন…