সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

টিনএজ ছেলেমেয়েদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস

আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এক বিশাল সমস্যা। টিনএজ থেকে ছেলেমেয়েদের ভিতরে নিজস্ব সত্ত্বা বা নিজ আইডেন্টিটির একটা বোধ তৈরী হতে থাকে। এসময়েই বিভিন্ন আসপেক্ট-এ তাকে উপযুক্ত আইডেন্টিটি পরিবার থেকে দিতে হয়, নতুবা শয়তান তার আইডেন্টিটি নির্ধারণ করে দেবে।
পলিটিকালি অসচেতন / নিউট্রাল ফ্যামিলির সন্তান দেখা যায় ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে কোনো একটা পলিটিকাল সাইড choose করতে শুরু করে। কেন? কারণ সে দেখছে বন্ধুরা / উপরের ক্লাসের ছেলেমেয়েরা ওমুক দলের পক্ষে বিপক্ষে কথা বলছে। তাহলে আমি কোন দলের পক্ষে / বিপক্ষে? নিজের দিকে তাকিয়ে সে উত্তর পায় না। কেননা উত্তরটা তার ফ্যামিলি থেকে তাকে শিখিয়ে দেয়া হয়নি। তখন একপ্রকার অসহায়ত্বের সৃষ্টি হয়। এই অসহায় দুর্বল ফিলিংস থেকে অনেকেই খুব দ্রুত "জোর গলার শক্তিশালী" গ্রুপ / দলের ব্যানারের নিচে ভিড়তে শুরু করে। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটা হয় the wrong choice.
টিনএজার একটা ছেলে আস্তিক-নাস্তিক দ্বন্দ্বের সামনে পড়ে অসহায় বোধ করে। বাসা থেকে তাকে শুধু বলে দেয়া হয়েছিল: তুমি মুসলিম। কিন্তু আধুনিক যুগে যে সন্তানকে নাস্তিক্যবাদ মোকাবিলা করতে হবে, তা পিতামাতা বোঝেন নাই, এমনকি সম্ভবতঃ তারা নিজেরাও সেটা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেন না। এমতাবস্থায় হুজুর/ইসলামপন্থীদের বিপরীতে নাস্তিকদেরকে বেশি লজিকাল ও স্ট্রং দেখতে পেয়ে অনেকেই নাস্তিকদের পতাকাতলে গিয়ে ভিড়ে। কেউবা আবার "মুসলিম"-ই থেকে যায়, কিন্তু দুর্বলভাবে, সংশয়সহকারে!
পরিবার থেকে যুগোপযোগী ধর্মশিক্ষা থাকলে বহু ছেলেকে নাস্তিকতা থেকে বাঁচানো যেত।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ভুলের বিরুদ্ধে আর সত্য-সঠিক-ন্যায়ের পক্ষে একা দাঁড়িয়ে থাকার মনোবল ও দৃঢ়তা তো ফ্যামিলি থেকেই দিয়ে দিতে হবে। তখন আশপাশের ২০টা বন্ধুও সিগারেট খেলে সে ছেলে কোনো peer pressure ফিল করবে না, বরং উল্টো তার দৃঢ়তার কাছে সিগারেটখোর ছেলেরা প্রেশার ফিল করবে, তার সামনে দুর্বল ফিল করবে। কিন্তু ক'টা পরিবার তার তরুণ ছেলেকে বাইরে ছেড়ে দেবার আগে ঘর থেকে সেই পরিমাণ দৃঢ়তা দিয়ে গড়ে দিয়েছে? গড়ে দেয়? খুব কম। একারণে দেখা যায়, বেশিরভাগ সিগারেট খাওয়া যুবককে জিজ্ঞাসা করে দেখবেন, বন্ধুদের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে, "স্মার্ট" হতে গিয়েই সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস করা। তারপরতো এখন অভ্যাস হয়েই গিয়েছে। কেন তাকে অন্যদের সাথে তাল মিলাতে হয়? কেননা সে দুর্বল। সে নিজ মতের উপর একলা দৃঢ় থাকার (পজিটিভ) একগুঁয়েমি শেখেনি।
আমাদের পরিবারগুলোর তো অনেক ভুল, অনেক ভুল। সন্তানকে good culture, good morals ইত্যাদি দিয়ে উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে তার পরে না ছেড়ে দিতে হবে: এখন দুনিয়ায় চরে খা, কেউ তোকে প্রভাবিত করে ক্ষতি করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। সেজন্যেতো সন্তানের সাথে অনেক বেশি ভালো বন্ধু হতে হবে, বন্ধুর চেয়েও ক্লোজ হতে হবে, যেন সবসময়ই নতুন নতুন বন্ধুর চেয়ে সন্তানের উপর আপনার প্রভাব বেশি থাকে!
If you're not friend with your child, then he's probably a friend with the devils already.

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

টাকার ইতিহাস, মানি মেকানিজম ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মহা জুলুম

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।) **জালিমের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম**

জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাস হলো মহররম মাস।
জালিমের মুখোশ উন্মোচনের মাস মহররম।
জুলুমের কূটকৌশল উন্মোচনের মাস মহররম।
আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় লেজিসলেশান (সংসদ), আর্মড ফোর্সেস (আর্মি) ও জুডিশিয়ারি (আদালত) হলো এক মহা জুলুমের ছদ্মবেশী তিন যন্ত্র, যারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে জুলুম টিকিয়ে রাখার জন্য।
তারচেয়েও বড় জালিম হলো big corporations: বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, যারা তাবৎ দুনিয়াকে দাস বানিয়ে রেখেছে।
আর এই দাসত্বের শৃঙ্খলে তারা আমাদেরকে আবদ্ধ করেছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে:
টাকা আমাদের শ্রমকে ধারণ করে, অথচ সেই টাকার মূল্য আপ-ডাউন করায় অন্যরা -- ব্যাংক ব্যবসায়ীরা!
টাকা আমাদের শ্রমকে সঞ্চয় করার মাধ্যম,
অথচ সেই টাকা আমরা প্রিন্ট করি না, প্রিন্ট করে (ব্যাংকের আড়ালে) কিছু ব্যবসায়ী! সেই টাকার মান কমে যাওয়া (বা বেড়ে যাওয়া) আমরা নির্ধারণ করি না -- নির্ধারণ করে ব্যাঙ্ক (ব্যবসায়ীরা)!
ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করব, শোকাহত হব কারবালার স্মরণে, অভিশাপ দেব জালি…

ধর্মব্যবসা: মুসলমানদের হাতে ইসলাম ধ্বংসের অতীত-বর্তমান (১)

ভূমিকা যদিও পলিটিকাল-রিলিজিয়াস ইস্যুতে নিশ্ছিদ্র আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করে আলোচনা করার অভ্যাস আমার, কিন্তু এখানে বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরে আর্গুমেন্ট করার প্রথমতঃ ইচ্ছা নেই, দ্বিতীয়তঃ সময় ও সুযোগ নেই। আমি যা সত্য বলে জানি, তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। যারা আমার উপর আস্থা রাখেন তাদের জন্য এই লেখাটি সোর্স অব ইনফরমেশান, উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষদের জন্য সত্য অনুসন্ধানের নতুন কিছু টপিক, আর প্রেজুডিসড ধর্মান্ধ রোগগ্রস্ত অন্তরের জন্য রোগ বৃদ্ধির উছিলা। শেষ পর্যন্ত আর্গুমেন্ট ও ডায়লগের দুয়ার উন্মুক্ত রাখার পক্ষপাতী আমি, কিন্তু সেই আর্গুমেন্ট অবশ্যই সত্য উন্মোচনের নিয়তে হওয়া উচিত, নিজের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস ও ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করবার উদ্দেশ্যে নয়। মক্কা-মদীনা: মুহাম্মদ (সা.) থেকে আলে-সৌদ (৬২৯-১৯২৪) এদেশের অধিকাংশ মানুষ মক্কা-মদীনার ইতিহাস কেবল এতটুকু জানেন যে, মুহাম্মদ (সা.) মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। কিন্তু প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র থেকে আজকের রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের ইতিহাস কম মানুষই জানেন। পবিত্র ম…

পিস টিভি, জাকির নায়েক ও এজিদ প্রসঙ্গ

সম্প্রতি গুলশান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। আমি তখন দিল্লীতে ছিলাম। দেশে ফিরে শুনি পিস টিভি ব্যান করা হয়েছে বাংলাদেশে, এবং তার আগে ইন্ডিয়াতে।

আমার বাসায় টিভি নেই, এবং আমি জাকির নায়েকের লেকচার শুনিও না। কিংবা পিস টিভিতে যারা লেকচার দেন, বাংলা কিংবা ইংলিশ -- কোনোটাই শুনি না; প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া আমার ইসলামের বুঝ জাকির নায়েকসহ পিস টিভি ও তার বক্তাদেরকে ইন জেনারেল আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। Peace TV বন্ধ হওয়ায় এদেশে বিকৃত ইসলাম প্রসারের গতি কমলো -- এটাই আমার মনে হয়েছে।

একইসাথে আমি এটাও মনে করি যে, যেই অভিযোগ পিস টিভিকে ব্যান করা হয়েছে, তা নিছক অজুহাত। জাকির নায়েক কখনো জঙ্গীবাদকে উস্কে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কিংবা পিস টিভির লেকচার শুনে শুনে ISIS জঙ্গীরা সন্ত্রাসী হয়েছে -- এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। ISIS এর ধর্মতাত্ত্বিক বেইজ সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই, এমন লোকের পক্ষেই কেবল ISIS এর জন্য জাকির নায়েককে দোষ দেয়া সম্ভব। একইসাথে আমি এ বিষয়েও সচেতন যে, পিস টিভি বন্ধ করা হয়েছে আমাদের সরকারের রেগুলার “ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ” হিসেবে, এই জন…