সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বর্তমান সময়ের ইসলাম সংক্রান্ত সমস্যার উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত -- ৫. কুরআনের সংকীর্ণ ব্যাখ্যা, ইসলামের সংকীর্ণ / পার্শিয়াল রেপ্রিজেন্টেশান

প্রায় প্রতিটা গ্রুপই কমবেশি এই কাজ করে থাকে। নিজেদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ডকে justify করার জন্য কুরআন-হাদীস থেকে কিছু রেফারেন্স তুলে ধরে। সহিংস-সশস্ত্র গ্রুপগুলো কুরআন থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জিহাদ ও কিতাল সংক্রান্ত আয়াত উপস্থাপন করে, সেইসাথে প্রাসঙ্গিক হাদীস নিয়ে আসে। কেউবা আবার কুরআন থেকে "আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা” ও সংঘবদ্ধ হয়ে থাকার রেফারেন্স এনে তাদের দলে টানার চেষ্টা করে। এগুলো সবই কুরআনের সংকীর্ণ ব্যাখ্যা, ইসলামের partial representation. সাধারণ মুসলমান যেহেতু কুরআন না পড়লেও এর উপর আস্থাশীল, তাই এই আস্থার সুযোগ নিয়ে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের ভুল / সংকীর্ণ ব্যাখ্যা করে নিজেদের দল ভারী করার চেষ্টা করে যাচ্ছে বিভিন্ন গ্রুপগুলো।

একই কাজ কিন্তু ইসলামবিরোধীরাও করে থাকে। যেমন, “তাদেরকে যেখানে পাও হত্যা করো”, এই কথাটি, যেটা পুরো একটা আয়াতও নয়, বরং আয়াতের একটি অংশ, সেটা তুলে দিয়ে তারা বলে যে ইসলাম সন্ত্রাসের ধর্ম, ইসলাম বিধর্মীদের গণহারে হত্যা করার আদেশ দিয়েছে। সকল মুসলিম গ্রুপ-ই ইসলামবিরোধীদের এই কমন অভিযোগকে অস্বীকার করে এবং বলে যে একটি আয়াতকে সংকীর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অথচ ইসলামী বিভিন্ন দল / মতের লোকেরা নিজেরাও একই কাজ করে যাচ্ছে, শুধু নিজেদের পক্ষের আয়াতগুলো তুলে ধরছে!
এদের বেশিরভাগই নিজেরাই জানে না, কুরআন কী জিনিস, মানব-রচিত গ্রন্থ থেকে ঐশী কিতাব কুরআনের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য কী, এবং কুরআন পড়ার উপায়-ই বা কী। কুরআন থেকে তাৎপর্য গ্রহণেরই বা উপায় কী। কুরআনের কোনো অর্থ না বুঝলে হাদীসের সহায়তা নিতে হবে, নাকি আক্বল (বিচারবুদ্ধি, reason) দ্বারা সেটা সমাধান করতে হবে (পরিশিষ্ট – ১ দ্রষ্টব্য)? ধর্মীয় বিষয়ে অথরিটির পর্যায়ক্রমই বা কী (পরিশিষ্ট – ১ দ্রষ্টব্য)?


মৌলিক বিষয়গুলির সমাধান না করে, মৌলিক বিষয়ের পরিপূর্ণ অকাট্য জ্ঞান অর্জন না করে উপরের স্তরে গেলে তখন বিভক্তি, মতবিরোধ ও শত্রুতা, ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। অতএব, যখন কুরআন-হাদীসের সংকীর্ণ ব্যাখ্যা করে সকল গ্রুপই তাদের নিজেদের দিকে ডাকছে, তখন সবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চিন্তামগ্ন হওয়া উচিত যে, ইসলামের নামে এসব কী হচ্ছে? ইসলাম আসলে কী? আক্বল, তাওহীদ, আখিরাত, রিসালাত, ইমামত, কিতাবুল্লাহ ইত্যাদি মৌলিক বিষয়ে দৃঢ় জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন।





এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

টাকার ইতিহাস, মানি মেকানিজম ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মহা জুলুম

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।) **জালিমের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম**

জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাস হলো মহররম মাস।
জালিমের মুখোশ উন্মোচনের মাস মহররম।
জুলুমের কূটকৌশল উন্মোচনের মাস মহররম।
আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় লেজিসলেশান (সংসদ), আর্মড ফোর্সেস (আর্মি) ও জুডিশিয়ারি (আদালত) হলো এক মহা জুলুমের ছদ্মবেশী তিন যন্ত্র, যারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে জুলুম টিকিয়ে রাখার জন্য।
তারচেয়েও বড় জালিম হলো big corporations: বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, যারা তাবৎ দুনিয়াকে দাস বানিয়ে রেখেছে।
আর এই দাসত্বের শৃঙ্খলে তারা আমাদেরকে আবদ্ধ করেছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে:
টাকা আমাদের শ্রমকে ধারণ করে, অথচ সেই টাকার মূল্য আপ-ডাউন করায় অন্যরা -- ব্যাংক ব্যবসায়ীরা!
টাকা আমাদের শ্রমকে সঞ্চয় করার মাধ্যম,
অথচ সেই টাকা আমরা প্রিন্ট করি না, প্রিন্ট করে (ব্যাংকের আড়ালে) কিছু ব্যবসায়ী! সেই টাকার মান কমে যাওয়া (বা বেড়ে যাওয়া) আমরা নির্ধারণ করি না -- নির্ধারণ করে ব্যাঙ্ক (ব্যবসায়ীরা)!
ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করব, শোকাহত হব কারবালার স্মরণে, অভিশাপ দেব জালি…

ধর্মব্যবসা: মুসলমানদের হাতে ইসলাম ধ্বংসের অতীত-বর্তমান (১)

ভূমিকা যদিও পলিটিকাল-রিলিজিয়াস ইস্যুতে নিশ্ছিদ্র আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করে আলোচনা করার অভ্যাস আমার, কিন্তু এখানে বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরে আর্গুমেন্ট করার প্রথমতঃ ইচ্ছা নেই, দ্বিতীয়তঃ সময় ও সুযোগ নেই। আমি যা সত্য বলে জানি, তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। যারা আমার উপর আস্থা রাখেন তাদের জন্য এই লেখাটি সোর্স অব ইনফরমেশান, উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষদের জন্য সত্য অনুসন্ধানের নতুন কিছু টপিক, আর প্রেজুডিসড ধর্মান্ধ রোগগ্রস্ত অন্তরের জন্য রোগ বৃদ্ধির উছিলা। শেষ পর্যন্ত আর্গুমেন্ট ও ডায়লগের দুয়ার উন্মুক্ত রাখার পক্ষপাতী আমি, কিন্তু সেই আর্গুমেন্ট অবশ্যই সত্য উন্মোচনের নিয়তে হওয়া উচিত, নিজের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস ও ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করবার উদ্দেশ্যে নয়। মক্কা-মদীনা: মুহাম্মদ (সা.) থেকে আলে-সৌদ (৬২৯-১৯২৪) এদেশের অধিকাংশ মানুষ মক্কা-মদীনার ইতিহাস কেবল এতটুকু জানেন যে, মুহাম্মদ (সা.) মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। কিন্তু প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র থেকে আজকের রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের ইতিহাস কম মানুষই জানেন। পবিত্র ম…

পিস টিভি, জাকির নায়েক ও এজিদ প্রসঙ্গ

সম্প্রতি গুলশান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। আমি তখন দিল্লীতে ছিলাম। দেশে ফিরে শুনি পিস টিভি ব্যান করা হয়েছে বাংলাদেশে, এবং তার আগে ইন্ডিয়াতে।

আমার বাসায় টিভি নেই, এবং আমি জাকির নায়েকের লেকচার শুনিও না। কিংবা পিস টিভিতে যারা লেকচার দেন, বাংলা কিংবা ইংলিশ -- কোনোটাই শুনি না; প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া আমার ইসলামের বুঝ জাকির নায়েকসহ পিস টিভি ও তার বক্তাদেরকে ইন জেনারেল আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। Peace TV বন্ধ হওয়ায় এদেশে বিকৃত ইসলাম প্রসারের গতি কমলো -- এটাই আমার মনে হয়েছে।

একইসাথে আমি এটাও মনে করি যে, যেই অভিযোগ পিস টিভিকে ব্যান করা হয়েছে, তা নিছক অজুহাত। জাকির নায়েক কখনো জঙ্গীবাদকে উস্কে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কিংবা পিস টিভির লেকচার শুনে শুনে ISIS জঙ্গীরা সন্ত্রাসী হয়েছে -- এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। ISIS এর ধর্মতাত্ত্বিক বেইজ সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই, এমন লোকের পক্ষেই কেবল ISIS এর জন্য জাকির নায়েককে দোষ দেয়া সম্ভব। একইসাথে আমি এ বিষয়েও সচেতন যে, পিস টিভি বন্ধ করা হয়েছে আমাদের সরকারের রেগুলার “ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ” হিসেবে, এই জন…