সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বর্তমান সময়ের ইসলাম সংক্রান্ত সমস্যার উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত -- ৪. দ্বীনি নেতৃত্বের ন্যুনতম যোগ্যতা

দ্বীনি নেতৃত্বের জন্য ন্যুনতম যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। সেই শর্ত যদি পূরণ না হয়, তাহলে কোটি কোটি মুসলমানের মাঝে যতজনই নেতা সেজে বসুক না কেনো, তারা কেউ-ই প্রকৃত ইসলামী নেতৃত্ব নয়, এবং তাদের কারো আনুগত্য করাই বাধ্যতামূলক নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের বিরোধিতা করা ফরজ হয়ে পড়ে।
এখন, ইসলামের নামে পরস্পরবিরোধী প্রতিটা দল / মতেরই ধর্মীয় নেতৃত্ব আছে। একজন সাধারণ মানুষ কিভাবে সত্যিকার দ্বীনি নেতৃত্বকে শনাক্ত করবে? যখন প্রতিটা গ্রুপই নিজেদেরকে সঠিক বলে দাবী করছে, তখন তাদের যেকারো আনুগত্য করার আগে যাচাই বাছাই করতে হবে। এই যাচাই-বাছাইয়ের মানদণ্ড কী? এইযে ইসলামের নামে বিভিন্ন দল / মতের অসংখ্য অনুসারী রয়েছে, এবং দিনদিন তারা কলেবরে বেড়েই চলেছে, নিশ্চয়ই তারা কোনো না কোনো মানদণ্ডের ভিত্তিতে তা করছে, ঐ নেতৃত্বকে মেনে নিচ্ছে। নিশ্চয়ই তাদের মানদণ্ড এক নয়। যদি প্রতিটা মানুষই, তা সে ইসলামের যে স্তরেই থাকুক না কেনো, প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে ঐ স্তর পর্যন্ত সকল স্তরের কমপ্লিট আন্ডারস্ট্যান্ডিং নিয়ে অগ্রসর হতো, তাহলে তাদের সকলের মানদণ্ড একই হতো, এবং তারা পরস্পরবিরোধী ধর্মীয় নেতৃত্বের অনুগামী না হয়ে একই ধর্মীয় নেতার আনুগত্য করতো। কিন্তু ইসলামের partial understanding নিয়ে অগ্রসর হওয়া মানুষেরা বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে নেতৃত্ব পছন্দ করে নিচ্ছে, যদিও তারা জানে না যে, সেটাই প্রকৃত মানদণ্ড কিনা। যেমন, কারো কাছে হলো সেই গ্রুপ-ই সঠিক, যারা সমাজে ইসলাম কায়েমের কথা বলে, রাষ্ট্রে ইসলাম কায়েমের কথা বলে। তখন সে এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে কোনো দলে গিয়ে ভিড়ছে। আবার, কারো কাছে হয়তো তারাই সঠিক, যারা ব্যক্তিজীবনে ইসলাম কায়েমের কথা বলে। তখন সে ঐ গ্রুপের সাথে চলছে। কেউবা আবার মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে জিহাদ কিংবা কিতালকে, অর্থাৎ যেই গ্রুপ কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও কিতালের কথা বলবে, তাদেরকেই সে অনুসরণ করবে। এইভাবে ইসলামের partial understanding নিয়ে অগ্রসর হওয়া মানুষেরা বিভিন্ন অনুপযুক্ত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নেতৃত্ব পছন্দ করে নিচ্ছে।

ইসলামের প্রকৃত দ্বীনি নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য কী? ইলম (জ্ঞান), আদালত (ভারসাম্য) ও দূরদৃষ্টি। এই তিনটিই কি শর্ত, নাকি আরো বেশি, নাকি আরো কম? এ নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন, রিসার্চ প্রয়োজন। উন্মুক্ত মানসিকতা নিয়ে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। পরস্পর জ্ঞান-বিনিময়ের মাধ্যমে আলেমগণের ঐকমত্যে আসা প্রয়োজন। অতঃপর তারা নিজেরাই সে মানদণ্ড অনুযায়ী দ্বীনি নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন, এবং সকলেই সেটা মেনে নেবে।


একজন ধর্মীয় নেতা যদি এমনসব ভুল কাজ করেন, যা সাধারণ মুসলমানের দৃষ্টিতেই অন্যায়, তখন কি তিনি আর নেতৃত্বের যোগ্য থাকেন? দ্বীনি নেতৃত্বকে যদি মানুষ দেখে কথা ও কাজের মিল নেই, তিনি দুনিয়াবী লাভের পিছনে ছুটছেন, তখন তার উপর আস্থা কি আর থাকবে? আল্লাহর রাসূলের (সা.) অনুপস্থিতিতে কে বা কারা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন? ইত্যাদি বহু বিষয় রয়েছে, যা আলাদা আলোচনার টপিক।




এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

টাকার ইতিহাস, মানি মেকানিজম ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মহা জুলুম

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।) **জালিমের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম**

জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাস হলো মহররম মাস।
জালিমের মুখোশ উন্মোচনের মাস মহররম।
জুলুমের কূটকৌশল উন্মোচনের মাস মহররম।
আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় লেজিসলেশান (সংসদ), আর্মড ফোর্সেস (আর্মি) ও জুডিশিয়ারি (আদালত) হলো এক মহা জুলুমের ছদ্মবেশী তিন যন্ত্র, যারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে জুলুম টিকিয়ে রাখার জন্য।
তারচেয়েও বড় জালিম হলো big corporations: বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, যারা তাবৎ দুনিয়াকে দাস বানিয়ে রেখেছে।
আর এই দাসত্বের শৃঙ্খলে তারা আমাদেরকে আবদ্ধ করেছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে:
টাকা আমাদের শ্রমকে ধারণ করে, অথচ সেই টাকার মূল্য আপ-ডাউন করায় অন্যরা -- ব্যাংক ব্যবসায়ীরা!
টাকা আমাদের শ্রমকে সঞ্চয় করার মাধ্যম,
অথচ সেই টাকা আমরা প্রিন্ট করি না, প্রিন্ট করে (ব্যাংকের আড়ালে) কিছু ব্যবসায়ী! সেই টাকার মান কমে যাওয়া (বা বেড়ে যাওয়া) আমরা নির্ধারণ করি না -- নির্ধারণ করে ব্যাঙ্ক (ব্যবসায়ীরা)!
ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করব, শোকাহত হব কারবালার স্মরণে, অভিশাপ দেব জালি…

ধর্মব্যবসা: মুসলমানদের হাতে ইসলাম ধ্বংসের অতীত-বর্তমান (১)

ভূমিকা যদিও পলিটিকাল-রিলিজিয়াস ইস্যুতে নিশ্ছিদ্র আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করে আলোচনা করার অভ্যাস আমার, কিন্তু এখানে বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরে আর্গুমেন্ট করার প্রথমতঃ ইচ্ছা নেই, দ্বিতীয়তঃ সময় ও সুযোগ নেই। আমি যা সত্য বলে জানি, তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। যারা আমার উপর আস্থা রাখেন তাদের জন্য এই লেখাটি সোর্স অব ইনফরমেশান, উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষদের জন্য সত্য অনুসন্ধানের নতুন কিছু টপিক, আর প্রেজুডিসড ধর্মান্ধ রোগগ্রস্ত অন্তরের জন্য রোগ বৃদ্ধির উছিলা। শেষ পর্যন্ত আর্গুমেন্ট ও ডায়লগের দুয়ার উন্মুক্ত রাখার পক্ষপাতী আমি, কিন্তু সেই আর্গুমেন্ট অবশ্যই সত্য উন্মোচনের নিয়তে হওয়া উচিত, নিজের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস ও ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করবার উদ্দেশ্যে নয়। মক্কা-মদীনা: মুহাম্মদ (সা.) থেকে আলে-সৌদ (৬২৯-১৯২৪) এদেশের অধিকাংশ মানুষ মক্কা-মদীনার ইতিহাস কেবল এতটুকু জানেন যে, মুহাম্মদ (সা.) মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। কিন্তু প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র থেকে আজকের রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের ইতিহাস কম মানুষই জানেন। পবিত্র ম…

পিস টিভি, জাকির নায়েক ও এজিদ প্রসঙ্গ

সম্প্রতি গুলশান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। আমি তখন দিল্লীতে ছিলাম। দেশে ফিরে শুনি পিস টিভি ব্যান করা হয়েছে বাংলাদেশে, এবং তার আগে ইন্ডিয়াতে।

আমার বাসায় টিভি নেই, এবং আমি জাকির নায়েকের লেকচার শুনিও না। কিংবা পিস টিভিতে যারা লেকচার দেন, বাংলা কিংবা ইংলিশ -- কোনোটাই শুনি না; প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া আমার ইসলামের বুঝ জাকির নায়েকসহ পিস টিভি ও তার বক্তাদেরকে ইন জেনারেল আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। Peace TV বন্ধ হওয়ায় এদেশে বিকৃত ইসলাম প্রসারের গতি কমলো -- এটাই আমার মনে হয়েছে।

একইসাথে আমি এটাও মনে করি যে, যেই অভিযোগ পিস টিভিকে ব্যান করা হয়েছে, তা নিছক অজুহাত। জাকির নায়েক কখনো জঙ্গীবাদকে উস্কে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কিংবা পিস টিভির লেকচার শুনে শুনে ISIS জঙ্গীরা সন্ত্রাসী হয়েছে -- এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। ISIS এর ধর্মতাত্ত্বিক বেইজ সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই, এমন লোকের পক্ষেই কেবল ISIS এর জন্য জাকির নায়েককে দোষ দেয়া সম্ভব। একইসাথে আমি এ বিষয়েও সচেতন যে, পিস টিভি বন্ধ করা হয়েছে আমাদের সরকারের রেগুলার “ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ” হিসেবে, এই জন…