সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাংলাদেশের রাজনীতি - বিবিধ

জানুয়ারি ৪, ২০১৪ :
পাঁচ বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন নিয়ে মাতামাতি করাটা অর্থহীন। এই নির্বাচন নিয়ে বিস্ময় ও সমালোচনায় মুখর হবার আগে অতীতের পাঁচটা আর ভবিষ্যতের পাঁচটা নির্বাচন নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে যে : কেনো আমরা পাঁচ বছর অন্তর অন্তর এরকম অবস্থার সম্মুখীন হই ? এই bigger picture টি দেখতে সক্ষম না হলে জাতি হিসেবে আমরা কোনোদিনই এই দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারবো না।

ডিসেম্বর ২০, ২০১৩ :
রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যত দেখতে জানতে হয়। পাঁচ-সাত বছরের সম্ভাব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।

আজকে দেশে যে অত্যাচার নির্যাতন চলছে, তা কি পাঁচ বছর আগে মইন-ফখরুর ইলেকশানে যাবার সময় অনুমিত হয়েছিলো ? আজকে কি আগামী পাঁচ বছর পরের দৃশ্য অনুমান করা হচ্ছে ?

আজকে এই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েও যদি ভবিষ্যত দেখা না হয়, যদি আগামী এক কিংবা পাঁচ বছর পরের দৃশ্য অনুমান করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা হয়; যদি শুধু "আজকের" উপর ভিত্তি করে কেবল "আগামীকালের" জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তবে দুঃখজনক লাশের মিছিল ছাড়া আর কিছুই উপহার হিসেবে আসবে না মুসলমানদের জন্য।

ডিসেম্বর ১৫, ২০১৩ :
"যখন ইরানের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে আরব জাতিগুলোকে আহবান করে মিশর, তারা কি সত্যিই ইরানকে বুঝায় ? ইরান তাদের জন্য হুমকি, নাকি ইসলাম ?" -- ইমাম খোমেনী।

ঠিক সেই একই চিত্র আজকের বাংলাদেশে...
যখন জামায়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে সবাইকে আহবান করে আওয়ামী-শাহবাগী লীগ, তারা কি সত্যিই জামায়াতে ইসলামকে বুঝায় ? জামায়াতে ইসলাম তাদের জন্য হুমকি, নাকি ইসলাম ?

ডিসেম্বর ৯, ২০১৩ :
নিশ্চয়ই শয়তানের কৌশল দুর্বল।
ভারত একটি কূপমণ্ডূক রাষ্ট্র। তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা ভবিষ্যতও দেখে না। তেমনি আওয়ামী লীগও। ৭৫ থেকে শিক্ষা নেয়নি বলে শেখ হাসিনা তার বাবার পথেই হাঁটছেন। আর সেক্যুলারিজমের ইতিহাস না জানার কারণে ২০১৩ সালে শাহবাগের মাধ্যমে ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে নিজেরাই। সেক্যুলারিজম কখনোই টেকসই কোনো পন্থা নয়। বরং কূটকৌশলী হলে তারা ধর্মকেই বিকৃতভাবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতো, কখনোই ধর্মের বিরুদ্ধে যেতো না।

১৯৭১ এর পর থেকে ভারতীয় স্নায়ুযুদ্ধের সমস্ত অ্যাচিভমেন্ট আনডু হয়ে গিয়েছে ২০১৩ সালের শাহবাগ এর মাধ্যমে। ৪২ বছর ধরে তারা এদেশের মানুষকে ইসলামচ্যুত করার যে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে আসছিলো, ২০১৩ তে শাহবাগের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে উল্টা মানুষের ইসলাম প্রেমকে জাগিয়ে তুললো। তার প্রমাণ দেখা গেলো ৬ই এপ্রিল ও ৫ই মে এর ঈমানী ডাকে জনতার অনিয়ন্ত্রিত ঢল - এ। নিতান্তই ইসলাম নিয়ে অসচেতন তরুণটিকেও যখন দেখি ইসলাম নিয়ে সচেতন হয়ে উঠতে, নামাজ-কুরআন পড়তে, এমনকি আরবী ভাষা পর্যন্ত শিখতে উদ্যমী হতে, তখন আমি প্রার্থনায় প্রশান্ত হই এই বলে যে হে আল্লাহ ‍! নিশ্চয়ই তুমি উত্তম কুশলী।


নভেম্বর ১২, ২০১৩ :
ইতিহাস হয়তো এই মানুষগুলোর প্রতি ন্যায়বিচার করবে না। ইতিহাসের একটি কি দুটি বাক্যে হয়তো তাদের স্থান হবে। কিন্তু সত্য সর্বদা তার স্থান দখল করে থাকবে।
বর্তমানে যে অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে এই তরুণ ছেলেগুলো, তা সঙ্গত কিনা সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার হতে পারে, কিন্তু একজন মুসলিম যখন ইসলামের পথে কাজ করার খাঁটি নিয়তে জান বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকে, তখন সেই কর্ম আল্লাহর আরশে পৌঁছে যায় নিশ্চিত।

নভেম্বর ১২, ২০১৩ :
চল্লিশ বছর আগে কয়েকজন মানুষ মিলে একটি আইন গ্রন্থ রচনা করে তাকে সংবিধান নামকরণ করে অতঃপর চল্লিশ বছর যাবৎ তাতে অসংখ্যবার কাঁটাছেড়া করে এখন সেই গ্রন্থের দোহাই দিয়ে বলা হচ্ছে : আমরা তো এর বাইরে যেতে পারি না।
এই গ্রন্থকে আবার বলা হয় পবিত্র। আসলে এর চেয়ে বেশি পরিবর্তনশীল ও vicious গ্রন্থ দুনিয়াতে আর নেই। না উপন্যাসে এতবার পরিবর্তন আসে, না ব্যাকরণ গ্রন্থে, না অভিধানে, না অন্য কিছুতে।

আল্লাহর বান্দা মানুষকে আল্লাহর প্রেরিত আদর্শ পুরুষের অনুসরণে ও আল্লাহ প্রদত্ত অপরিবর্তনীয় সর্বজনীন গ্রন্থের আলোকে শাসন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন না করাই দুনিয়ার সকল সমস্যার মূল।

নভেম্বর ১, ২০১৩ :
রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি কোনো ঐশী বিধান নয় যে তা পরিবর্তন করা যাবে না। সুতরাং যারা কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেন, তাদের জানা উচিত যে :
১. এই চার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য এদেশের জনগণ যুদ্ধ করেনি
২. সংবিধানে এই চার মূলনীতি জনগণের সিদ্ধান্তে হয়নি, অর্থাৎ এই চার মূলনীতির দোহাই দেওয়া এবং একইসাথে নিজেকে গণতন্ত্রপন্থী দাবী করা পরস্পরবিরোধী। রাষ্ট্রের মূলনীতিই যদি জনগণ নির্ধারণ না করবে, তবে গণতন্ত্র বলতে কি কেবল লুটপাট করার জন্য ৫ বছর মেয়াদে তথাকথিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করাকে বোঝায় ?

এদেশের মানুষ তো তৎকালীন পাকিস্তানের সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি। বরং নতুন একটি দেশ জন্ম নেওয়ার পর কি উচিত ছিলো না জনগণকেই তাদের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি পছন্দ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া ? এটা নিশ্চিতই বলা যায় যে, সে সময়ে ইসলামের বিপরীতে বর্তমান চার মূলনীতিকে ব্যালট পেপারে রাখলে ইসলামের বিপরীতে এরা জয়ী হতে পারতো না।

যা-ই হোক, এরপর "পবিত্র সংবিধান" বহুবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান জগাখিচুড়ি এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। যে জিনিস দুর্নীতিবাজ, দুশ্চরিত্র এমপি-মন্ত্রীদের ইচ্ছায় ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তিত হয়, পরিবর্তিত হয় স্বৈরশাসকদের ইচ্ছায়, তাকে যদি পবিত্র বলতে হয়, তবে ধর্মগ্রন্থের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে হয়।

যে জিনিস ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয়, তা আইন হতে পারে না। নিজের স্বেচ্ছাচারিতাকে একপ্রকার বৈধতা দেয়ার জন্য প্রতিটা সরকারই এসে যা খুশি তাই করবে এবং করার আগে সেটাকে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আইনের রূপ দিয়ে নেবে -- এতো মিথ্যাবাদিতা, জনগণের সাথে প্রতারণা এবং খাঁটি শয়তানি ছাড়া আর কিছুই নয়।

সময় এসেছে জনগণের সামনে ব্যালট পেপার উপস্থাপন করার :
আইনের উৎস হবে অপরিবর্তনীয় ঐশী গ্রন্থ, নাকি স্বেচ্ছাচারী স্বৈরশাসকদের কাঁটাছেড়া করার মানব লিখিত কোনো গ্রন্থ ?



অক্টোবর ২৩, ২০১৩ :
২৮শে অক্টোবর, ২০০৬ এ আওয়ামী লীগের লগি বৈঠার তাণ্ডব, ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে মানুষকে পিটিয়ে খুন করে লাশের উপর নৃত্য।
৯ই ডিসেম্বর, ২০১২ সালে ক্যামেরার সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নিরীহ বিশ্বজিতকে হত্যা করল ছাত্রলীগ।
২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশে শতাধিক মানুষকে পাখির মত গুলি করে হত্যা করলো পুলিশ, এমনি ক্যামেরার সামনেও।
৫ই মে, ২০১৩ দিবাগত রাতে ইবাদতরত লাখো লোকের সমাবেশে বহু বাহিনীর সম্মিলিত সশস্ত্র হামলা, অগুনতি মানুষ হত্যা, লাশ গুম, ভোর হবার আগেই পানি দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার।

এতো কেবল সাম্প্রতিক কয়েক বছরের অল্প কিছু ঘটনা, যা একেবারেই অস্বীকার করা যায় না। যা চোখের সামনে দুঃস্বপ্নের মত লাগে।
এই খুনিদের কাছে কোনো সুস্থ বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলমান "বিচার" প্রত্যাশা করতে পারে ? তাও আবার অদেখা, অজানা প্রমাণবিহীন "যুদ্ধাপরাধ" এর বিচার, যা কিনা শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করার জন্য সাজানো হয়েছে ?

Seriously, I don't consider them as Muslim. Indeed :
"Allah has set a seal on their hearts and on their hearing, and on their eyes is a veil; great is the penalty they (incur)." -- Quraan, 2:7


অক্টোবর ৪, ২০১৩ :
লিফট থেকে নেমে মেইন গেট পর্যন্ত যেতে যেতে সূরা নাস-ফালাক-ইখলাস পড়া হয়ে যায়।
আজ বিকালে, ঠিক বিকাল না, তখন আসলে প্রায় সন্ধ্যা নেমেছে -- রিকশায় ওঠার পর আবার সূরা নাস পড়লাম মনে মনে। তারপর সূরা ফালাক। কখনো মনে হয়নি যে কোনো মানুষ আমার অনিষ্ট করতে পারে। তবে ঐ মুহুর্তে কেনো যেনো মনে হয়েছিলো। তাই বরাবরের চেয়ে একটু বেশি নিবিষ্টভাবে পড়লাম। মনে মনে বললাম : হে আল্লাহ, এরা নীতিহীন মানুষ, সহি-সালামতে বাসায় ফিরিয়ে দিও।

আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে দোষ নেই; বাসা থেকে বেরোলে আয়াতুল কুরসি কিংবা নাস-ফালাক-ইখলাস পড়ার অভ্যাস করে ফেলেছি; কিন্তু ইদানিং একটু বেশি ভয় লাগে। চারিদিকে শয়তানের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। টিকটিকি। ইঁদুর-বিড়াল এমনকি বাঘ পর্যন্ত।

যাহোক, তিন মিনিট মতন পরে রিকশা থেকে নেমে ডেস্টিনেশানে পৌঁছলাম। অল্প দু-চারটা কথা বলেছি। বলছিলাম : Religion, political view, social view, morality -- these are the things that constitutes us, our identity. I just can't ignore that...
"ধর্ম, রাজনীতি -- আসলে দুইটা আলাদাভাবে না, দুইটা পরস্পর জড়িত, ধর্মের ভিতরেই রাজনীতি আছে--" কথা শেষ করার আগেই পাশ থেকে বললো : "না। কখনোই না। ধর্ম আর রাজনীতি এক জিনিস না। দুইটা আলাদা জিনিস।"

তখন বলতে মন চাইলো : "তুমি তো স্যেকুলারিজমের মূলনীতি আউড়াচ্ছো, স্যেকুলারিস্টরা এই ব্রেইন ওয়াশিং দিয়েছে।" কিন্তু বলিনি।

ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখানোটা কিন্তু শুধুমাত্র জামাতবিরোধী চেতনা গড়ে তোলার জন্য নয়। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, যুদ্ধাপরাধী -- এগুলো কালের প্রবাহে কিছু অস্তিত্ব। এখন এদেরকে শেষ করার জন্য ধর্ম ও রাজনীতিকে আলাদা করার শ্লোগান ব্যবহার করা হচ্ছে। এরা শেষ হলে আর কারো বিরোধিতা করা হবে। হোক তারা যুদ্ধাপরাধী কিংবা না।

বর্তমানে দেশে ধর্ম ও রাজনীতিকে আলাদা করে দেখার যে ব্রেইনওয়াশিং তরুণ সমাজকে দেয়া হচ্ছে, তা বৃহত্তর ধর্মহীন নীতিবিবর্জিত অসভ্য স্যেকুলার সমাজ তৈরীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা জামায়াত-শিবিরে কেবল শেষ হবে না। এ ষড়যন্ত্র সুদূরপ্রসারী। এদেশে ইসলামের পক্ষে একটি কণ্ঠ থাকা পর্যন্ত তাদের এ মিশন শেষ হবে না। কখনো যুদ্ধাপরাধী দমনের নামে, কখনোবা অন্য কোনো নামে। এই ষড়যন্ত্র বুঝতে না পেরে (নামেমাত্র কিংবা সাধারণ) অনেক মুসলমান এদের পক্ষে সাফাই গাইছে, চিৎকার করছে। যাদের নেতৃত্বে তারা আজ ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই চলে চিৎকার করছে, এরাই যখন আগামী কয়েক বছর পর মসজিদে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করে দেবে, জুমার নামাজে গণগ্রেফতার চালাবে, তখন এই ফাঁসি চাওয়া প্রেতসাধক নামধারী মুসলমানদের কে রক্ষা করবে ? তখন তারা (হয়তো) বুঝতে পারবে, কিন্তু (হয়তো) দুর্ভাগ্যজনকভাবে ততদিনে এদেশে ইসলামের পক্ষের সকল কণ্ঠ ও শক্তি শেষ হয়ে যাবে।

আশার কথা হলো :
"বলুন : সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিলো।"
সূরা বনী-ইসরাঈল, ১৭:৮১


মে ৬, ২০১৩ :
৫ই মে ২০১৩। দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মতিঝিল এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সকল মিডিয়াকর্মীকে সরিয়ে দিয়ে RAB, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ বাহিনীর ১০-১২ হাজার সদস্যরা লক্ষ লক্ষ হেফাজত কর্মীসহ অবস্থানকারী সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালালো। মাত্র এক থেকে দেড় ঘন্টায় বাংলাদেশের ইতিহাসের বর্বরতম নৃশংস গণহত্যা চললো। হাজারের উপরে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা যেনো মানুষ না জানতে পারে, সেজন্যে ইতোমধ্যেই অসংখ্য লাশ গুম করা হয়েছে, এবং মতিঝিলে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। দিগন্ত টিভির সম্প্রচার কার্যে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গিয়েছে সরকার, সম্প্রচার বন্ধ দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির। আমার দেশ পত্রিকা তো আরো আগেই বন্ধ। সেইসাথে এই গণহত্যাকে তিন থেকে ছয়জনের মৃত্যু বলে প্রচার করছে সরকারী বাহিনী।

এর আগে ২৮শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী গণহত্যা চালিয়ে ৭০ জনকে একদিনে হত্যা করেছিলো সরকারী বাহিনী। পরবর্তী কয়েক দিনে সর্বমোট দেড় শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছিলো এরা।

এর আগে ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ এ বিডিআর এর ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারকে খুন করা হয়েছিলো এদের সহায়তায়।

এর আগে ২৮শে অক্টোবর, ২০০৬ এ প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপথে লগি বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছিলো আওয়ামী লীগের বাহিনী।

এর আগে ......

শেষ হবে না। খোদায়ী গজব ছাড়া এরা শেষ হবে না। প্রতিদিন এদের ধ্বংস কামনা করে নামাজে দোয়া করি। আমার দোয়া কবুল না হলেও, যেসব বাবা-মা ভাই-বোনের প্রিয়জনকে হত্যা করেছে এরা, তাদের অশ্রুমিশ্রিত দোয়া নিশ্চয়ই কবুল হবে !



এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

টাকার ইতিহাস, মানি মেকানিজম ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মহা জুলুম

ভূমিকা: জালিমের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম
 (মহররম: ইনফো সিরিজ এর শেষ পোস্ট ছিল এটা। মূল সিরিজটি পড়ে আসুন)
জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাস হলো মহররম মাস। জালিমের মুখোশ উন্মোচনের মাস মহররম। জুলুমের কূটকৌশল উন্মোচনের মাস মহররম। আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় লেজিসলেশান (সংসদ), আর্মড ফোর্সেস (আর্মি) ও জুডিশিয়ারি (আদালত) হলো এক মহা জুলুমের ছদ্মবেশী তিন যন্ত্র, যারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে জুলুম টিকিয়ে রাখার জন্য। তারচেয়েও বড় জালিম হলো big corporations: বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, যারা তাবৎ দুনিয়াকে দাস বানিয়ে রেখেছে। আর এই দাসত্বের শৃঙ্খলে তারা আমাদেরকে আবদ্ধ করেছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে: টাকা আমাদের শ্রমকে ধারণ করে, অথচ সেই টাকার মূল্য আপ-ডাউন করায় অন্যরা -- ব্যাংক ব্যবসায়ীরা! টাকা আমাদের শ্রমকে সঞ্চয় করার মাধ্যম, অথচ সেই টাকা আমরা প্রিন্ট করি না, প্রিন্ট করে (ব্যাংকের আড়ালে) কিছু ব্যবসায়ী! সেই টাকার মান কমে যাওয়া (বা বেড়ে যাওয়া) আমরা নির্ধারণ করি না -- নির্ধারণ করে ব্যাঙ্ক (ব্যবসায়ীরা)! ইমাম হুসাইনের (আ.) প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করব, শোকাহত হব কারবালার স্মরণে, অভিশাপ…

পিস টিভি, জাকির নায়েক ও এজিদ প্রসঙ্গ

সম্প্রতি গুলশান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। আমি তখন দিল্লীতে ছিলাম। দেশে ফিরে শুনি পিস টিভি ব্যান করা হয়েছে বাংলাদেশে, এবং তার আগে ইন্ডিয়াতে।

আমার বাসায় টিভি নেই, এবং আমি জাকির নায়েকের লেকচার শুনিও না। কিংবা পিস টিভিতে যারা লেকচার দেন, বাংলা কিংবা ইংলিশ -- কোনোটাই শুনি না; প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া আমার ইসলামের বুঝ জাকির নায়েকসহ পিস টিভি ও তার বক্তাদেরকে ইন জেনারেল আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। Peace TV বন্ধ হওয়ায় এদেশে বিকৃত ইসলাম প্রসারের গতি কমলো -- এটাই আমার মনে হয়েছে।

একইসাথে আমি এটাও মনে করি যে, যেই অভিযোগ পিস টিভিকে ব্যান করা হয়েছে, তা নিছক অজুহাত। জাকির নায়েক কখনো জঙ্গীবাদকে উস্কে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কিংবা পিস টিভির লেকচার শুনে শুনে ISIS জঙ্গীরা সন্ত্রাসী হয়েছে -- এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। ISIS এর ধর্মতাত্ত্বিক বেইজ সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই, এমন লোকের পক্ষেই কেবল ISIS এর জন্য জাকির নায়েককে দোষ দেয়া সম্ভব। একইসাথে আমি এ বিষয়েও সচেতন যে, পিস টিভি বন্ধ করা হয়েছে আমাদের সরকারের রেগুলার “ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ” হিসেবে, এই জন…

ধর্মব্যবসা: মুসলমানদের হাতে ইসলাম ধ্বংসের অতীত-বর্তমান (১)

ভূমিকা যদিও পলিটিকাল-রিলিজিয়াস ইস্যুতে নিশ্ছিদ্র আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করে আলোচনা করার অভ্যাস আমার, কিন্তু এখানে বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরে আর্গুমেন্ট করার প্রথমতঃ ইচ্ছা নেই, দ্বিতীয়তঃ সময় ও সুযোগ নেই। আমি যা সত্য বলে জানি, তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। যারা আমার উপর আস্থা রাখেন তাদের জন্য এই লেখাটি সোর্স অব ইনফরমেশান, উন্মুক্ত হৃদয়ের মানুষদের জন্য সত্য অনুসন্ধানের নতুন কিছু টপিক, আর প্রেজুডিসড ধর্মান্ধ রোগগ্রস্ত অন্তরের জন্য রোগ বৃদ্ধির উছিলা। শেষ পর্যন্ত আর্গুমেন্ট ও ডায়লগের দুয়ার উন্মুক্ত রাখার পক্ষপাতী আমি, কিন্তু সেই আর্গুমেন্ট অবশ্যই সত্য উন্মোচনের নিয়তে হওয়া উচিত, নিজের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস ও ধ্যান ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করবার উদ্দেশ্যে নয়। মক্কা-মদীনা: মুহাম্মদ (সা.) থেকে আলে-সৌদ (৬২৯-১৯২৪) এদেশের অধিকাংশ মানুষ মক্কা-মদীনার ইতিহাস কেবল এতটুকু জানেন যে, মুহাম্মদ (সা.) মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। কিন্তু প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র থেকে আজকের রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের ইতিহাস কম মানুষই জানেন। পবিত্র ম…